আমান ফিডের ‘আমলনামা’

2
11963

হোসাইন আকমল : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে টাকা তোলার অনুমোদন পেয়েছে আমান ফিড লিমিটেড। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৫৪১তম সভায় অনুমোদন দেয়া হয়।

আইপিওতে আবেদন ২৫ মে, রোববার থেকে শুরু হয়ে চলবে ৪ জুন পর্যন্ত। বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও এই সময়ের মধ্যে আওতাভুক্ত হবেন। তবে শর্ত হচ্ছে- ব্যাংকের মাধ্যমে আর আইপিও আবেদন করা যাবে না।

কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে ৭২ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এ কোম্পানিকে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সাথে ২৬ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৩৬ মূল্যে শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। ২০০টি শেয়ারে কোম্পানির মার্কেট লট নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসেবে প্রতিটি লটের ক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ৭ হাজার ২০০ টাকা।

 Approval for Issuance of Prospectus :

Aman Feed Ltd.: Bangladesh Securities and Exchange Commission (BSEC) has given consent for raising of capital through Initial Public Offering (IPO) and issuance of prospectus by Aman Feed Ltd.

সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী আমান ফিডের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৯৭ পয়সা। নেট এসেট ভ্যালু (এনএভি) হয়েছে ৩০ টাকা ৭৭ পয়সা ।

বিএসইসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী আইপিওর টাকা উত্তোলন করবে আমান ফিড। এ নির্দেশনার আওতায় আইপিও আবেদন গ্রহণের জন্য ব্যাংক বাদ দিয়ে  ব্রোকার হাউজগুলো রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমান ফিড কেবল ব্রোকার হাউজের মাধ্যমে আইপিও আবেদন সংগ্রহ করতে পারবে।

আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা টাকা  ব্যবসা সম্প্রসারণ, দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ পরিশোধ, চলতি মূলধন এবং আইপিওর কাজে ব্যয় করবে কোম্পানিটি। কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে ২০০৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় আমান ফিড লিমিটেড। মো. রফিকুল ইসলাম এ কোম্পানির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক- মো. শফিকুল ইসলাম। কোম্পানিটির পরিচালক- মো. তৌফিকুল ইসলাম ও মো. তরিকুল ইসলাম। আর নমিনেটেড ডিরেক্টর- মো. আজিজুল হক এবং তৌহিদুল আশরাফ কোম্পানি সেক্রেটারি।

কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ৬ কোটি। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ১০ টাকা। এর ১৪.৫ শতাংশের মালিক হিসেবে চেয়ারম্যানের রয়েছে ৮৭ লাখ শেয়ার। টাকার হিসেবে ৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার। ২২.৭৫ শতাংশের মালিক হিসেবে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের রয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার। টাকার হিসেবে ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার। ২২.৭৫ শতাংশের মালিক হিসেবে পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলামের রয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার। টাকার হিসেবে ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার।

আবার, ২২.৭৫ শতাংশের মালিক হিসেবে পরিচালক মো. তরিকুল ইসলামের রয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার। টাকার হিসেবে ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার। সে হিসেবে কোম্পানির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকদের রয়েছে ৯১ শতাংশ বা ৫ কোটি ৪৬ লাখ শেয়ার। টাকার হিসেবে ৪৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার। বাকী ৯ শতাংশ বা ৫৪ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৩ শতাংশ করে মালিকানায় রয়েছে আমান এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, আমান কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড ও মিলান কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড।

সে হিসেবে এই ৩ কোম্পানির প্রত্যেকের পৃথকভাবে রয়েছে ১৮ লাখ করে শেয়ার। যা টাকার হিসেবে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার। সব মিলে ৬ কোটি শেয়ার বা ৬০ কোটি টাকার শেয়ার রয়েছে।

আমান ফিড প্রধানত পোল্ট্রি শিল্পের খাদ্য-পণ্য উৎপাদন করে। এরমধ্যে রয়েছে ব্রয়লার এবং লেয়ার চিকেনের খাবার। এছাড়াও মাছের খাবার, চিংড়ি মাছের খাবার এবং গবাদী পশুর খাবার উৎপাদন করে থাকে কোম্পানিটি।

২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০০৬ সালের ১২ জুলাই থেকে ক্ষুদ্র পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে আসে কোম্পানিটি। জার্মান থেকে আমদানীকৃত অত্যাধুনিক মেশিনারিজ সংযুক্ত করার পর এর উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এতে প্রতি ঘন্টায় ১০ মেট্রিক টন এবং প্রতি মাসে ৬০০০ মেট্রিক টন খাদ্য-পণ্য উৎপাদনে সক্ষম হয় কোম্পানিটি।

এসব খাদ্য-পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমান ফিড আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে। মান নিয়ন্ত্রণের জন্য কোম্পানিটি ইতোমধ্যে আইএসও সনদ (ISO 9001:2008) ও এইচএসিসিপি (Hazard Analysis and Critical Control Point) সনদ প্রাপ্ত হয়েছে।

পোল্ট্রি শিল্প, মাছ এবং গবাদী পশুর খাদ্য সমগ্র দেশে সরবরাহ করে থাকে আমান ফিড। এজন্য সারা দেশে সক্রিয় রয়েছে তাদের অনুমোদিত ২০০ জন ডিলার।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here