‘নিয়মনীতি নেই’, আইপিওর অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম

0
1163

শাহীনুর ইসলাম : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে টাকা সংগ্রহ করছে কোম্পানিগুলো। সংগৃহিত টাকা ব্যবহারে আইপিওর প্রসপেক্টাসে সময়সীমা উল্লেখ করা হলেও সে ‘নিয়মনীতি’  মানা হচ্ছে না। যে কারণে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ আইপিওর টাকা ব্যবহার করার আগেই বোনাস শেয়ার ছেড়ে মুলধন বৃদ্ধি করছে।

‘বোনাস শেয়ার ইস্যুর বিষয়ে কোনো ধরনের নিয়মনীতি নেই। কোম্পানি চাইলে তার আয়ের যেকোনো অংশ বোনাস শেয়ারের মাধ্যমে মূলধন বাড়াতে পারে।’ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের নীতিমালা না থাকায় কমছে কোম্পানির ইপিএস এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

সাধারণত ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ বা আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কোম্পানিগুলোর মূলধনের প্রয়োজন। মুলধন বৃদ্ধির নামে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ নতুন শেয়ার ইস্যু করে। সে ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো পুনঃগণপ্রস্তাব (আরপিও), রাইট শেয়ার, ডিবেঞ্চার বা বন্ডের মাধ্যমে বাজার থেকে নতুন করে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। তবে আইপিওর অর্থ ব্যবহারের আগে দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানি এমন কাজ করছে।

সাময়িকভাবে কোম্পানির মুলধন বৃদ্ধির নতুন চিত্র প্রকাশ করা হলেও কমছে ইপিএস, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কোম্পানির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

বোনাস শেয়ার ইস্যু সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান বলেন, বোনাস শেয়ার ইস্যুর বিষয়ে কোনো ধরনের নিয়মনীতি নেই। কোম্পানি চাইলে তার আয়ের যেকোনো অংশ বোনাস শেয়ারের মাধ্যমে মূলধন বাড়াতে পারে।

তিনি বলেন, তবে কোম্পানির যেসব সাধারণ শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন, তারা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বোনাস শেয়ার ইস্যুর বিষয়টির যৌক্তিক কারণ কোম্পানির কাছ থেকে জানতে পারেন। যদি যৌক্তিক কোনো কারণ না থাকে তাহলে তারা বোনাস শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন না দিলেই পারেন।

অন্যদিকে আইপিওর অর্থ ব্যবহারে কোম্পানি তার প্রসপেক্টাসে সময়সীমা নির্ধারণ করে থাকে। সে টাকা ব্যবহার শেষে না করেই কোম্পানির কর্তৃপক্ষ বোনাস শেয়ার ছাড়ে। এতে কোম্পানির মুলধন বৃদ্ধি করলেও ব্যবসায় উন্নতি হয়না।  এতে কোম্পানির ‘ভুল’ সিন্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হন অনেকে।

আইপিওর অর্থ ব্যবহার না হতেই কোম্পানিকে বোনাস শেয়ার প্রদান করতে দিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ‘ভুল’ করছে বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ।

তিনি আইপিও অর্থ ব্যবহার সম্পর্কে বলেন, এসব কোম্পানি শুধু বোনাস শেয়ার দিয়ে মূলধন বাড়াচ্ছে কিন্তু ব্যবসায় উন্নতি হয় না। বোনাস শেয়ার দেওয়ার পরের বছর গিয়ে কোম্পানিগুলোর ইপিএস কমে যায়, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা লোকসানের কবলে পড়েন। তাই আইপিওর টাকা ব্যবহার না হতেই বোনাস শেয়ার প্রদানে নিষেধাজ্ঞা অথবা উদ্যোক্তাদের বোনাস শেয়ার বিক্রয়ে লক ইন চালু করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

একই সঙ্গে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী আইপিও সম্পর্কে বলেন, একটি কোম্পানি যদি সত্যিই মুনাফা করে তাহলে বোনাস শেয়ার প্রদান করতে পারে। তবে নগদ লভ্যাংশ প্রদানের ওপর একটি কোম্পানির সক্ষমতা বা ভিত্তি কতটা মজবুত তা নির্ভর করে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

২০১৫ সালে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বেশ কয়েকটি কোম্পানি। দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়ে শেয়ার লেনদেন শুরুর পর নীতিমালা না থাকায় কয়েকটি কোম্পানি বোনাস শেয়ার ইস্যু করে তাদের মূলধন বাড়িয়েছে।

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে―রিজেন্ট টেক্সটাইল, আমান ফিড, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ, শাশা ডেনিমস ও ইফাদ অটোস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here