অস্তিত্ব মিলছে না ১১টি কোম্পানির!

0
3031

সিনিয়র রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১১ কো্ম্পানি উধাও হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর ঠিকানা খুঁজে পাচ্ছে না স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগকারীদের ৪ কোটি ৮৭ লাখ শেয়ার রয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪০০ কোটি টাকা প্রায়।

কোম্পানিগুলো হলো- বাংলাদেশ ইলেকট্রিসিটি মিটার কোম্পানি বেমকো, চিক টেক্সটাইল, রাসপিট ডাটা, রাসপিট ইনকরপোরেশন, এম হোসেন গার্মেন্টস, ফার্মাকো, আমান সি ফুড, জার্মান বাংলা ফুড, মেটালিক্স, রাঙামাটি ফুড ও সালেহ কার্পেট।

ডিএসইতে রাসপিট ডাটা ও রাসপিট ইনকরপোরেশনের প্রোফাইলের ঠিকানা অনুযায়ী রাজধানীর গ্রীন রোডে ১৯ এ কে কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তানভির জালালের চেম্বার।

এছাড়া ওই ভবনের চতুর্থ তলায় অন্য দুটি কোম্পানির অফিস রয়েছে।

সেখানে কর্মরতরা জানান, তারা তিন বছরের বেশি সময় চাকরি করছেন। কিন্তু ভবনটিতে কখনও ওই দুই কোম্পানির অফিস দেখেননি। তারা বলেন, কোম্পানির খোঁজে প্রায়ই বিনিয়োগকারী ও পুলিশ আসে। কখনও সাংবাদিকরা এসে কোম্পানির খোঁজ-খবর জানতে চান। যে কারণে ঝামেলা এড়াতে আগের ভাড়াটিয়া এই ফ্লোর ছেড়ে সাত তলায় চলে গেছেন।

অন্য কোম্পানি ফার্মাকো। ডিএসইতে কোম্পানিটির ঠিকানা দেওয়া আছে ৫০/১ পুরানা পল্টন লাইন, ঢাকা। কিন্তু সেখানেও এ কোম্পানির কোনো কার্যালয় নেই। সেখানে গিয়ে আশাহত হয়ে প্রায়ই ফিরে আসেন বিনিয়োগকারীরা।

একই অবস্থা বস্ত্র খাতের এম হোসেন গার্মেন্টসের। ডিএসইতে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, কোম্পানির ঠিকানা রাজধানীর বনানীতে। কিন্তু সেখানে এ কোম্পানির কোনো অস্তিত্ব নেই।

একই অবস্থা সালেহ কার্পেটের। ঠিকানা অনুযায়ী বন্দরনগরী চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে কোম্পানিটির কার্যালয়। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে প্রায়ই সেখানে হাজির হন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু বর্তমানে সেখানে আর এ কোম্পানির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ২০১৪ সালে সর্বশেষ এ কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা হয়।

অন্যদিকে ওয়েবসাইটে দেওয়া ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যায়নি বেমকো ও চিক টেক্সটাইল কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে। এ দুই কোম্পানির মধ্যে পুঁজিবাজারে চিক টেক্সটাইলের মোট এক কোটি ২৫ লাখ শেয়ার রয়েছে, যার মধ্যে পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৫০ শতাংশ শেয়ার।

এছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ২৬.৫৬ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের রয়েছে ২৩ শতাংশ শেয়ার। অন্যদিকে বেমকোর বাজারে মোট শেয়ার রয়েছে তিন লাখ ৬৪ হাজার। এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৪৪ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ৩১ ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ২৫ শতাংশ শেয়ার।

উল্লেখ্য, ওটিসিতে তালিকাভুক্ত রয়েছে মোট ৬৬টি কোম্পানি। এর মধ্যে তালিকাভুক্তির পর একটি শেয়ারও লেনদেন হয়নি ১৩ কোম্পানির। এছাড়া অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি ১১ কোম্পানির এবং নামমাত্র লেনদেন হয় ৩৪ কোম্পানির শেয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here