অশুভ লক্ষণ, বাড়ছে স্বল্পমূলধনী কোম্পানির প্রভাব

0
487
স্টাফ রিপোর্টার : সম্প্রতি শেয়ারবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নাজুক হলেও একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছে স্বল্পমূলধনী কোম্পানি ও দুর্বল কোম্পানির শেয়ার। ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারের দর না বেড়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে এসব কোম্পানির শেয়ারের দর।
দুর্বল কোম্পানিগুলোর মধ্যে অনেকেরই অতীত ভালো নয়। বিভন্ন অনিয়মের দায়ে এদের জরিমানা করা হয়েছে। কয়েকটি কোম্পানির নামে সার্টিফিকেট মামলাও ঝুলছে। ফলে এসব কোম্পানির অস্বাভাবিক দর বাড়া কোনো শুভ লক্ষণ হতে পারে না। যাকে বাজারের জন্য অশুভ লক্ষণ বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যের ভিত্তিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর বাড়ার কথা থাকলেও বর্তমানে এর উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার দর বৃদ্ধির তালিকায় থাকা কোম্পানির মধ্যে মৌলভিত্তির দৌড়ে পিছিয়ে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হলটেড হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চাইলে মূল্য সংবেদনশীল কোনো তথ্য নেই— এমন জাবাব দেয় এসব স্বল্পমুলধনী কোম্পানির কর্তৃপক্ষ।

বাজার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ডিএসইর লেনদেন শেষে দর বাড়ার শীর্ষ ২০ তালিকায় কয়েকটি কোম্পানির আধিপত্য দেখা যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- জেমিনি সি ফুড, সোনালি আঁশ, মুন্নু সিরামিক, দুলামিয়া কটন, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল। তালিকায় আরও রয়েছে- দেশ গার্মেন্টস, রহিম টেক্সটাইল, জুট স্পিনার্স, অরিয়ন ইনফিউশনসহ আরও কিছু দুর্বল কোম্পানি।

ডিএসইর পরিচালক হানিফ ভূঁইয়া বলেন, বিনিয়োগকারী কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করবে, সেটা তাকেই ঠিক করতে হবে। আমার মনে হয় চোখ-কান খোলা রাখলে কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে হবে, সেটা তারা নিজেরাই বুঝতে পারে। কোনো কারণ ছাড়া যখন শেয়ারের দর অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে, তখন এসব কোম্পানি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, বিনিয়োগ যার তাকেই তার পুঁজি নিরাপদে রাখতে হবে। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে হয় কোম্পানির মৌলভিত্তি দেখে। হুজুগে, গুজবে কিংবা লোভে কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

চালচুলাহীন এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ কতটা যুক্তিযুক্ত তা জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসইর একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেন, স্বল্পমূলধনী এসব কোম্পানিতে সব সময় একটি চক্র থাকে। যাদের অধিকাংশই কোম্পানির ভিতরের লোক। তারা কোম্পানির বিভিন্ন খবর (যার বেশির ভাগই গুজব) বাইরে ছড়িয়ে শেয়ারের দর বাড়ায়। আর এতে পা দিয়ে নিঃস্ব হন বিনিয়োগকারীরা।

বিনিয়োগকারীদের নেতা শাহাদাত উল্লাহ ফিরোজ বলেন, এসব কোম্পানির শেয়ার নিয়ে খেলছে কিছু লোক। এদের অনেকেই কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। মূলত তারা নিজেরাই নিজেদের শেয়ার নিয়ে খেলছেন। মাঝখান থেকে ক্ষতি হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

এর আগে কোম্পানির গতিবিধি সন্দেহজনক হলে ডিএসই বেশকিছু কোম্পানিকে সংবেদনশীল তথ্য জানতে নোটিস পাঠায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- লিবরা ইনফিউশন, মুন্নু স্টাফলার, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, লিগাসি ফুটওয়ার, বিডি অটোকারস ও এএমসিএল (প্রাণ)। এই তালিকায় আরও রয়েছে সাফকো স্পিনিং, মডার্ন ডাইং, দুলামিয়া কটন, রহিমা ফুড, সোনারগাঁ টেক্সটাইল, দেশ গার্মেন্টস, জেএমআই সিরিঞ্জ, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, রহিম টেক্সটাইল ও স্টাইল ক্রাফট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here