অলিম্পিক এক্সেসরিজের ‘বাণিজ্যিক উৎপাদন যেকোন দিন শুরু’

0
4712

সিনিয়র রিপোর্টার : অলিম্পিক এক্সেসরিজ লিমিটেডের বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন যেকোন দিন শুরু হবে। ইতোমধ্যে কোম্পানির উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক গ্রিন বিল্ডিং নির্মাণ (নিজস্ব ভবনের তিনটি ফ্লোর) সম্পন্ন হয়েছে।

একই সঙ্গে নতুন করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে কোম্পানির বাৎসরিক আয় আরো প্রায় ৫০ কোটি টাকা বাড়বে। মেশিন স্থাপন এবং বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি সম্পর্কে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ স্টক বাংলাদেশ -এর সত্যতা নিশ্চিত করে।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে (আইপিও) পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত ২০ কোটি টাকা এবং কোম্পানির নিজস্ব টাকা আরো কিছু টাকার ব্যবহারে এসব তৈরি করেছে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ।

বিশেষ একটি সূত্র জানায়, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে চীন থেকে নতুন মেশিন আনা এবং গাজীপুরের জয়দেবপুরের কারখানায় স্থাপনও করা হয়েছে। চীনের ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চলতি বছরের অক্টোবর মাসে মেশিন স্থাপন শেষে পরীক্ষামূলক পণ্যের উৎপাদন শুরু করে।

বাজার সম্প্রসারণ করতে কারখানায় বর্তমানে ২৬৪জন শ্রমিক কাজ করছে। গার্মেন্টস বা তৈরি পোশাকের জন্য বিভিন্ন ধরণের ‘প্রডাক্ট’ তৈরি করতে কর্তৃপক্ষ ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিষ্ঠানটি তৈরি পোশাক বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে থাকে। যেমন- শার্টের কলার, বাটন, হ্যাঙ্গার, এলাস্টিক, ব্যাক বোর্ড, মাস্টার কটন ইত্যাদি পণ্য। এসব পণ্যের বাজারজাত করা হয় দেশে।

মেশিন কেনা এবং স্থাপন সম্পর্কে কথা হলে অলিম্পিক এক্সেসরিজ লিমিটেড কোম্পানির সেক্রেটারি হাবিবুল্লাহ বলেন, জয়দেবপুরের কোম্পানির মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। চীন থেকে লোক এসে কারখানায় মেশিন স্থাপন শেষে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদনও করা হয়েছে।

আইপিও থেকে নেয়া টাকা এবং কোম্পানির কিছু টাকায় এসব তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিন তলা গ্রিণ বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। আমরা যেকোন দিন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যেতে পারি। অন্যদিকে আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে কর্তৃপক্ষ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করবে, এমন আভাসও পাচ্ছি।

নতুন মেশিন আসায় পুরাতন মেশিন সম্পর্কে হাবিব বলেন, পুরাতন মেশিনও আমাদের চলবে। পুরাতন মেশিনে আমাদের বাৎসরিক উৎপাদন হয় ৩ কোটি ২২ লাখ পিস। নতুন চালু করা হলে মোট উৎপাদনের সঙ্গে আরো অনেক বাড়বে। এতে কোম্পানির প্রডাকশন, সেল এবং ইনকামও বাড়বে।

কোম্পানির বাৎসরিক সেল এখন ১৫০ কোটি টাকা। নতুন মেশিন চালু হলে আরো অনেক বিক্রি এবং বাজার বাড়বে। তবে কি পরিমাণ বাড়বে তা বলতে তিনি রাজী হননি। তবে বলেন, এটা ‘কোম্পানির জন্য মূল্য সংবেদনশীল তথ্য’।

একই তথ্য নিশ্চিত করেন কোম্পানির শেয়ার এন্ড একাউন্টস ডিভিশনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. জামির হোসেন চৌধুরী।

জানা গেছে, কোম্পানির কি পরিমাণ আয় করছে দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদনে জানা যাবে। ইতোমধ্যে প্রথম প্রান্তিকের আয় গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আগামীতে কোম্পানির আয় দ্বীগুণ বা তিনগুণ বাড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, অলিম্পিক এক্সেসরিজ লিমিটেডের প্রথম প্রান্তিকে ((জুলাই-সেপ্টেম্বর, ১৬) শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) করেছে ৩৯ পয়সা। আগের বছর কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ৩৭ পয়সা।

এসময়ে কোম্পানির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ১৭ টাকা  ৯ পয়সা। আর ৩০ জুন, ২০১৬ পর্যন্ত সময়ে ছিল ১৬ টাকা ৭০ পয়সা।

অলিম্পিক এক্সেসরিজ লিমিটেড সমাপ্ত অর্থ বছরে নগদ ৫ ও স্টক (বোনাস) ৭ শতাংশ মিলে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

OALOAL-0লভ্যাংশ ঘোষণার পর কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৭৩ পয়সা, শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৭১ পয়সা।

রাজধানীর রমনায় দ্য ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইবি) ভবনে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১৭ই ডিসেম্বর আহ্বান করা হয়েছে। রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৯শে নভেম্বর।

পেছনের খবর : অলিম্পিক এক্সেসরিজের লভ্যাংশ ঘোষণা

আরো খবর : ‘বোনাস শেয়ারে’ ৪টি কোম্পানির মূলধন বৃদ্ধি