অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের বিক্রি বেড়েছে

1
880

সিনিয়র রিপোর্টার : স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশে পণ্য রফতানিতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। চলতি ২০১৭-১৮ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কোম্পানিটির নিট বিক্রি ১৮ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কর-পরবর্তী মুনাফা বেড়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।

সর্বশেষ প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৭-১৮ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৩২৭ কোটি টাকা; আগের একই সময়ে যা ছিল ২৭৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে স্থানীয় বাজারে ৩২৫ কোটি ৪৭ লাখ এবং বিদেশে ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেছে তারা।

উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির গ্রস মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১০৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা; আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৯৩ কোটি টাকা। তবে তুলনামূলকভাবে পরিচালন ব্যয় বাড়ায় বিক্রির সমানুপাতে বাড়েনি কোম্পানির নিট মুনাফা।

জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে ২০ দশমিক ৪২ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৬১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা; আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৫৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। শ্রমিকদের লভ্যাংশ প্রদান ও কল্যাণ তহবিল বরাদ্দ বাবদ ব্যয় বাদ দিয়ে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ৪১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। প্রথম প্রান্তিকে এর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ২৪ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৭ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৯৭ পয়সা।

প্রসঙ্গত, এ বছরের শুরুর দিকে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জানিয়েছিল নুডলস, স্ন্যাকস ও বিস্কিটজাতীয় পণ্য উত্পাদন এবং উত্পাদিত পণ্য মোড়কজাতের জন্য কার্টন উত্পাদন করতে আলাদা আলাদা ইউনিট স্থাপন করবে এবং এজন্য বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি করবে তারা।

নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরস্থ কুতুবপুরে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানা প্রাঙ্গণের ৮৮ হাজার বর্গফুট জায়গায় নতুন ইউনিটগুলোর জন্য ভবন এবং সাব-স্টেশন নির্মাণ করা হবে। সবমিলে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। কোম্পানির নিজস্ব তহবিল ও ব্যাংকঋণের মাধ্যমে এ অর্থ জোগান দেয়া হবে।

এদিকে গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত সভায় ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের পর্ষদ। এ সময় কোম্পানির ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ২২ পয়সা এবং এনএভিপিএস দাঁড়ায় ২৭ টাকা ৭ পয়সায়। পাশাপাশি কোম্পানিটির পর্ষদ সংঘ স্মারকে বিশেষ তিনটি ধারা এবং বিদ্যমান বেশকিছু ধারা-উপধারার পুনর্বিন্যাস ও পরিবর্তনের জন্য ১৪ ডিসেম্বর কুতুবপুরের ব্যাটারি কারখানা প্রাঙ্গণে ইজিএম আহ্বান করেছে। একই দিন একই স্থানে কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভাও (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে।

কোম্পানিটির সংঘ স্মারক সংযোজন, পুনর্বিন্যাস ও পরিবর্তনসংক্রান্ত প্রস্তাবনা পর্যালোচনায় দেখা যায়, এতে বিভিন্ন ধরনের বেকারি পণ্য তৈরির সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের চকোলেট, ফুড-সাপ্লিমেন্ট, নুডলস, ফাস্টফুড, পোলট্রি ও দুগ্ধজাত পণ্য, সফট ড্রিংক, পানি, জুস, হিমায়িত খাদ্য, শুকনো খাদ্য, প্রক্রিয়াজাত ফল ও সবজি, হিমায়িত ও শুকনো মাছ-মাংস, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং পণ্য, কাগজ, পাটের তৈরি বিভিন্ন পণ্য, গার্মেন্টস, অ্যাকসেসরিজ, ওষুধ, প্লাস্টিক, মেলামাইন ও সিরামিকস পণ্য তৈরির সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব পণ্য উত্পাদন ও বিপণনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগানসহ নিজস্ব অর্থায়নে কিংবা যৌথ উদ্যোগে কারখানা নির্মাণ এবং দেশে অথবা বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন পাওয়ার পর উচ্চ আদালতের অনুমতিপ্রাপ্তির ৯০ দিনের মধ্যে সংঘ স্মারক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে কোম্পানিসূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৯৯ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভ ২৫৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের মধ্যে কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালক ২৮ দশমিক ৯২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১২ দশমিক ৭৯, বিদেশী বিনিয়োগকারী ৪২ দশমিক ৩৪ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে বাকি ১৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ শেয়ার।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সর্বশেষ ২৬৭ টাকা ৫০ পয়সায় অলিম্পিকের শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ৩২৮ টাকা ও সর্বনিম্ন ২৪৫ টাকা।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত (পিই) ৩২ দশমিক ৯৪, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত মুনাফার ভিত্তিতে যা ২৯ দশমিক ৮৫।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here