৩টি কোম্পানি পাচ্ছে আরো বিদ্যুৎ প্লান্ট

1
3722

সিনিয়র রিপোর্টার : ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ১০টি ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার লাইসেন্স দেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করেছে সরকার। এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও জানা গেছে, এর মধ্যে পাঁচটি লাইসেন্স পাচ্ছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানি বা তাদের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি। এর বাইরে আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইসেন্স পাচ্ছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আগেই সাতটি কেন্দ্রের জন্য আবেদন চূড়ান্ত হয়। সেখানে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য মনোনীত হয় কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের প্রস্তাবিত যৌথ উদ্যোগ, যেখানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ার বেশি থাকবে।

আরেকটি কেন্দ্রের জন্য চূড়ান্তভাবে ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডকে বাছাই করা হয়েছে। এর বাইরে শাশা ডেনিমস লিমিটেডের সাবসিডিয়ারি এনার্জিস পাওয়ার করপোরেশন লিমিটেডকে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইসেন্সের জন্য মনোনীত করা হয়। সে দফায় বাকি তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য মনোনীত হয় শেয়ারবাজারের বাইরে থাকা তিনটি আলাদা প্রতিষ্ঠান।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সভায় আরো তিনটি বিদ্যুতৎ প্রকল্পের জন্য চূড়ান্ত প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়। এর মধ্যে একটি হলো এনার্জিস পাওয়ার করপোরেশন, দ্বিতীয়টির মালিকানায় ইউনাইটেড গ্রুপ থাকলেও এর সঙ্গে এখনো পর্যন্ত গ্রুপের কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির সম্পর্ক নেই। তৃতীয়টির মালিকানায় একটি শ্রীলংকান প্রতিষ্ঠান।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল নাগাদ উত্পাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়ে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ১০টি বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের দরপত্র আহ্বান করে বিপিডিবি। ২০১৫ সালে ডলারের বিপরীতে ৭৮ টাকা ৬৬ পয়সা বিনিময় হার ধরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দর ১০ দশমিক ৪৩ সেন্ট ধার্য করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডলারের বর্তমান বিনিময় হার হিসাব করে দর প্রস্তাব করে দেশী বেশ কয়েকটি কোম্পানি। ছিল বিদেশী কিছু কোম্পানিও।

এসব কোম্পানি থেকে বাছাই করে গত ৫ নভেম্বর ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য একটি প্রাথমিক তালিকা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আরেকটি কেন্দ্রের জন্য প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বাকি তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্যও সর্বনিম্ন দরপ্রস্তাবকারীদের বাছাই করা হয়। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত হওয়া কোম্পানিগুলোকে কাজ দেয়া হবে।

এ বিষয়ে বিপিডিবির প্রধান প্রকৌশলী (প্রাইভেট ডিপার্টমেন্ট) মো. সাঈদ আহমেদ স্টক বাংলাদেশকে বলেন, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ১০টি বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য দরপ্রস্তাব করেছিলাম আমরা। এর মধ্যে সর্বনিম্ন দরপ্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাছাই করে গত মাসে সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রাথমিক তালিকা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

তিনি বলেন, এর বাইরে বৃহস্পতিবার আরো তিনটি প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত কোম্পানির তালিকা করা হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, কোনো সমস্যা না থাকলে সর্বনিম্ন দরপ্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনার অনুমোদন দেয়া হবে। তাদের কাছ থেকে বিদ্যুত্ কিনতে চুক্তি করবে বিপিডিবি।

বিপিডিবির বৃহস্পতিবারের সভায় তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রস্তাবিত দরপত্রের একটিতে এগিয়ে রয়েছে এনার্জিস পাওয়ার করপোরেশন। দ্বিতীয়টির মালিকানায় থাকছে ইউনাইটেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজেস। অন্যটিতে এগিয়ে রয়েছে শ্রীলংকান কোম্পানি লখধবি পাওয়ার করপোরেশন।

এর মধ্যে ইউনাইটেড গ্রুপ ১১ দশমিক ৩১ সেন্ট প্রস্তাব করে একক দরপ্রস্তাবকারী হিসেবে জামালপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য চূড়ান্ত হয়েছে। এই কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দরপ্রস্তাব করায় অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে ইন্ট্রাকো লিমিটেড।

অন্যদিকে এনার্জিস পাওয়ার করপোরেশন ১০ দশমিক ১০ সেন্ট দরপ্রস্তাব করে এগিয়ে রয়েছে ফেনী ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য। এই প্রকল্পে ১০ দশমিক ৪২ সেন্ট দরপ্রস্তাব করে শাশার নিটকতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল মিডল্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড।

গত মাসে চূড়ান্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সিমেন্ট খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি কনফিডেন্স সিমেন্ট ও তাদের গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স স্টিলসের প্রস্তাবিত যৌথ উদ্যোগ রংপুর ও বগুড়ার প্রকল্পে, এনার্জিস পাওয়ার বাগেরহাটে আর ডরিন পাওয়ার অ্যান্ড জেনারেশন চাঁদপুর প্রকল্পে বিপিডিবির সুপারিশ পেয়েছে।