অর্থ সংকটে উৎপাদনে ফিরতে থমকে আছে বিডি ওয়েল্ডিং

0
337

সিনিয়র রিপোর্টার : বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস লিমিটেডের (বিডি ওয়েল্ডিং) চট্টগ্রামের কারখানা ঢাকার ধামরাইয়ে স্থানান্তরের কাজ শুরু হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে কারখানা স্থানান্তর করে উৎপাদন চালুর কথা ছিল। চট্টগ্রাম কোম্পানিটির সব যন্ত্রপাতি এরমধ্যে ঢাকায় স্থানান্তরও করা হয়েছে।

তবে নগদ অর্থ সংকটের কারণে কারখানায় বেশকিছু প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের কাজ আটকে আছে। তবে শিগগিরই  কোম্পানির তহবিলে বীমা বাবদ কিছু অর্থ আসার কথা। এ অর্থ হাতে পেলেই নির্মাণকাজ শেষ করে কারখানা চালু করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিডি ওয়েল্ডিংয়ের একজন পরিচালক বলেন, সাভারের ধামরাইয়ে কোম্পানির কারখানা স্থানান্তর কার্যক্রমে বর্তমানে কিছুটা স্থবিরতা বিরাজ করছে। মূলত নগদ অর্থ সংকটের কারণেই এমনটা হয়েছে। চট্টগ্রামের কারখানা বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া গেছে, তার মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংকের ঋণ, নামজারি ফি, বিভিন্ন ধরনের বিল, কর্মচারীদের পাওনা মিটিয়ে কোম্পানির অ্যাকাউন্টে ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা জমা হয়। এর মধ্যে ৭ কোটি টাকায় ধামরাইয়ে ২ দশমিক ১০ একর জমি কেনা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাকি টাকা জমির উন্নয়ন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যন্ত্রপাতি স্থানান্তরসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে ব্যয় হয়েছে। অর্থ সংকটের কারণে কারখানায় যন্ত্রপাতি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা যাচ্ছে না। তবে সাধারণ বীমা করপোরেশনের কাছ থেকে বীমা বাবদ প্রায় ১ কোটি টাকা পাওয়ার কথা রয়েছে। এ টাকা পেলেই প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ শেষে কারখানা চালু করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, লোকসান ও ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার একটি দুষ্টচক্রে আটকে গিয়েছিল ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোড রড ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্যাস উৎপাদক বিডি ওয়েল্ডিং। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ না করায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) ঋণখেলাপি হিসেবে কোম্পানিটির নাম উঠে আসে। এ কারণে অন্য কোনো ব্যাংকের কাছ থেকেও ঋণ পাচ্ছিল না তারা।

একসময় কাঁচামাল আমদানি করলেও ব্যাংকের সমর্থন না পাওয়ায় একপর্যায়ে স্থানীয় আমদানিকারকদের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে কাঁচামাল কিনে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছিল বিডি ওয়েল্ডিং। এতে বছরের পর বছর প্রতিযোগীদের কাছে বাজার হারিয়ে ২০১৫ সালে এসে লোকসানে পড়ে তারা।

পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ব্যাংকঋণ পরিশোধের জন্য চট্টগ্রামের কারখানার ২ দশমিক ৪৯ একর বন্ধকি জমি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানি পর্ষদ। গত বছরের জুনে বিএসআরএম গ্রুপের কাছে চট্টগ্রামের কারখানার জমিটি ৩৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় বিক্রি করে বিডি ওয়েল্ডিং।

এর মধ্যে সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত হওয়ার কারণে শূন্য দশমিক ২৬ একর জমির মূল্য বাবদ ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা বাদ দেয়া হয়। তাছাড়া সাউথইস্ট ব্যাংকের ২২ কোটি ৫৭ লাখ টাকার ঋণ পরিশোধসহ নামজারি ফি, বিভিন্ন বিল ও কর্মচারীদের পাওনা বাবদ অর্থ বাদ দিয়ে কোম্পানির এসক্রো অ্যাকাউন্টে ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা জমা হয়।

এদিকে জমি বিক্রির মাধ্যমে ব্যাংকঋণ পরিশোধ, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় কারখানা স্থানান্তরে নতুন জমি নির্বাচন, ক্রয়, কারখানা স্থাপনসহ সার্বিক বিষয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) বিডি ওয়েল্ডিংকে সহায়তা করেছে। কোম্পানিটিতে আইসিবির উল্লেখযোগ্য শেয়ার রয়েছে এবং পর্ষদে তাদের তিনজন প্রতিনিধিও আছে।

লোকসানের কারণে দুই বছর ধরে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি বিডি ওয়েল্ডিং। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে (ইপিএস) ১ টাকা ৯৫ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির এনএভিপিএস হয়েছে ১২ টাকা ৪ পয়সা। এর আগে ২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে ১৮ মাসে বিডি ওয়েল্ডিংয়ের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় ৩ টাকা ৫০ পয়সা। সে সময় কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১২ টাকা ৮৭ পয়সা।

সদ্যসমাপ্ত ২০১৭-১৮ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই ২০১৭-মার্চ ২০১৮) বিডি ওয়েল্ডিংয়ের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪৬ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে  লোকসান ছিল ৭২ পয়সা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সর্বশেষ ১৬ টাকা ৮০ পয়সায় বিডি ওয়েল্ডিংয়ের শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে এর সর্বোচ্চ দর ছিল ২৭ টাকা ৯০ পয়সা ও সর্বনিম্ন ১৫ টাকা ৩০ পয়সা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here