অনুমোদন হতে পারে পাবলিক ইস্যু রুলস

1
3474

স্টাফ রিপোর্টার : সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) রুলস, ২০০৬-এর খসড়া সংশোধনী অনুমোদন হতে পারে এই সপ্তাহে। সংশোধনীতে থাকছে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্তিতে ইচ্ছুক কোম্পানির ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন থাকার বাধ্যবাধকতা। একইসঙ্গে আইপিওর কোটা পদ্ধতি ঢেলে সাজানোসহ আরো পরিবর্তন থাকছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সূত্রে জানা যায়, ১২ নভেম্বর বিএসইসির ৫৫৯তম সভায় পাবলিক ইস্যু বিধিমালা অনুমোদন হওয়ার কথা থাকলেও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন। তবে সপ্তাহের যেকোনো দিন কমিশনের সভায় এটি অনুমোদন হতে পারে। কমিশনে সংশোধনী অনুমোদনের পর চলতি মাসের মধ্যেই জনমত যাচাই সম্পন্ন হবে। এরপর ডিসেম্বরে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে।

সূত্র আরো জানিয়েছে, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে আগ্রহী কোম্পানির ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন থাকার বাধ্যবাধকতা শিথিল করে ২০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ঢেলে সাজিয়ে বিদেশীদের জন্য কোটার ব্যবস্থা করবে বিএসইসি।

বর্তমানে কোন আইপিও সাইজের ২০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের, ১০ শতাংশ অনিবাসী বাংলাদেশী, ১০ শতাংশ মিউচুয়াল ফান্ড ও বাকি ৬০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য রাখার বিধান রয়েছে। এ ব্যবস্থার পরিবর্তন এনে বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আইপিওর ১০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হতে পারে।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফিন্যান্সিং পদ্ধতি উৎসাহিত করাও প্রস্তাবিত সংশোধনীর আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক। আইপিওর পর উদ্যোক্তা অংশের শেয়ার বিক্রির ওপর তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তা এক বছরে নামিয়ে আনার প্রস্তাব রয়েছে সংশোধনীতে।

পাবলিক ইস্যু বিধিমালা অনুমোদনের পর কোনো কোম্পানি আইপিওতে প্রিমিয়াম দাবি করলে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসতে হবে। যে কারণে সংশোধন প্রস্তাবে পরিশোধিত মূলধনের বাধ্যবাধকতা কমিয়ে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি আরো সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বাজারে ন্যূনতম শেয়ার ছাড়া, মূল্য নির্ধারণ, নিলাম প্রক্রিয়াসহ বুক বিল্ডিং পদ্ধতির অন্যান্য ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে বিধিমালা অনুমোদনের মাধ্যমে।

উন্নত দেশের মতো আইপিওর প্রসপেক্টাসে কোম্পানির জন্য আরো বেশি তথ্য দেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে সংশোধনীতে। স্থির মূল্য ও বুক বিল্ডিং উভয় পদ্ধতিতে ইস্যুয়ার কোম্পানির প্রসপেক্টাসে অনেক বেশি তথ্য দেয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে খসড়ায়। সংশোধনী প্রস্তাব অনুযায়ী কোম্পানির মূলধন বৃদ্ধির ইতিহাস, পরিচালকদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য থাকতে হবে। মামলা কিংবা অন্য কোনো আইনি বিষয়, ঝুঁকি সম্পর্কিত তথ্যও থাকতে হবে প্রসপেক্টাসে।

সূত্র জানায়, ইস্যু ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদেয় স্বচ্ছতার সনদ বা ডিউ ডিলিজেন্স সার্টিফিকেটটি যথার্থতা নিশ্চিতে আরো বেশি তথ্যপূর্ণ হতে হবে। শেয়ারবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থের ব্যবহার শেষ হওয়া পর্যন্ত ইস্যু ব্যবস্থাপককে কোম্পানির সঙ্গে বাধ্যতামূলক যুক্ত থাকতে হবে।  এতে ইস্যু ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব বাড়বে বলে ফি বাড়ানো হচ্ছে তাদের। একইসঙ্গে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আরো বেশি জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here