অনিয়ম ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরো ক্ষমতা বাড়ছে

0
221
bangladesh bank logoস্টাফ রিপোর্টার : আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কঠোর হচ্ছে সরকার। তৈরি করতে যাচ্ছে নতুন একটি আইন। দেশের ব্যাংকিং খাতে হলমার্ক, বিসমিল্লাহসহ বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ার পর এবার এই আইন তৈরি হচ্ছে। আর এই আইনটি প্রযোজ্য হবে শুধু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে। আইনের ক্ষমতার বলে কেন্দ্রী ব্যাংক বিধান লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে পারবে। পাশ হলে অনেক মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্সমতা আরো বাড়ছে।
জানা গেছে, আইনে বাংলাদেশ ব্যাংককে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিধি লঙ্ঘন করে যেসব পরিচালক ঋণ দেবেন তাদেরও দোষী হিসেবে গণ্য করা হবে। একই সঙ্গে ঋণের টাকা পরিচালকের শেয়ার সমন্বয় করে আদায় করা হবে। প্রস্তাবিত আইনে অন্য যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য করা হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোম্পানি আইনের এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত ছাড়া অন্য কোনো আদালতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে প্রশ্ন তোলা যাবে না।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১২ নামক খসড়া আইনটি মূলত গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করেই তৈরি করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে পরিচালনা পর্ষদ যাতে সেটি এড়িয়ে যেতে না পারে সে ব্যবস্থাই আইনটিতে করা হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া পরিচালকদেরও বিভিন্ন শর্ত বেঁধে দেয়া হয়েছে। শিগগিরই এটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হবে।
অনিয়মে বিভিন্ন শাস্তি : খসড়া আইনটিতে বলা হয়েছে, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান ধারা ৩৪ ও ৪১-এর বিধান লঙ্ঘন করে ঋণ দিলে এর জন্য পরিচালকরা দায়ী থাকবেন। এর পাশাপাশি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরও একই দোষে দোষী বলে গণ্য করা হবে। এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের অনধিক তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ২০ লাখ টাকা অর্থদ- অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। শুধু তাই নয়, ধারা ৩৩-এর বিধান লঙ্ঘন করে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানত গ্রহণ করলেও এর দায়দায়িত্ব  প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিতে হবে। এর জন্য তাদের গৃহীত আমানতের অনধিক দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ ফেরত দিতে হবে।বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স না নিয়ে অর্থায়ন ব্যবসা করলে অথবা লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও ব্যবসা অব্যাহত রাখলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে শাস্তি দিতে পারবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটিকে অনধিক পঁচিশ লাখ টাকা অর্থদ- এবং অনূর্ধ্ব দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দেয়া হয়েছে।

লাইসেন্স পাওয়ার আবেদনপত্রে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে এ আইনের ধারা ৬-এর অধীনে ১০ লাখ টাকা অর্থদ- দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অথবা অনূর্ধ্ব তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

লাইসেন্স নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হলে খসড়া আইনটিতে অনধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এরপরও যদি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি ওই শর্ত পালনে ব্যর্থ হয় তবে প্রতিদিনের ব্যর্থতার জন্য এক লাখ টাকা অর্থদ-ে দ-িত করার বিধান রাখা হয়েছে এতে।

বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দেয়ার পরও কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি তা অমান্য করে তবে অনধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে। এছাড়া ধারা ৯২ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ অমান্য করলে অনধিক এক লাখ টাকা এবং লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে প্রথম দিনের পর প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদ-ে দন্ডিত করা হবে।

এছাড়াও কোনো প্রতিষ্ঠান যদি আর্থিক প্রতিষ্ঠান না হয়েও এর মতো কার্যক্রম পরিচালনা করে তবে খসড়া আইনটিতে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক, অংশীদার, পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব বা অন্য কোনো কর্মকর্তা বা এজেন্ট প্রত্যেককেই অনধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা অনূর্ধ্ব তিন বছর কারাদ- বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা হবে। খসড়া আইনটিতে লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য বেঁধে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন শর্ত।

পরিচালকদের জন্য বিধিনিষেধ : আইনটিতে বলা হয়েছে, অন্য আইনে যাই বলা থাকুক না কেন, এ আইনের অধীনে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে ১৩ জনের বেশি পরিচালক থাকতে পারবে না। পরিচালকদের মেয়াদ হবে তিন বছর। তবে কোনো পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী ওই পদে দুই মেয়াদের বেশি থাকতে পারবেন না। পাশাপাশি দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী একটি মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদে পুনর্নির্বাচিত হতে পারবেন না। দুই মেয়াদের অধিক পরিচালক পদে থাকলে এই আইন কার্যকর হওয়ার এক বছর পর ওই পরিচালক পদ শূন্য হবে।

তাছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোনো ঋণ, লিজ, অগ্রিম লিজ, ঋণ সুবিধার কিস্তি বা সুদ পরিশোধ, প্রাপ্য টাকা পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যদি নোটিশের মাধ্যমে পরিচালকদের নির্দেশ দেয় এবং দুই মাসের মধ্যে তা যদি নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি করতে না পারে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তার পদ শূন্য হবে। পাশপাশি ওই সময় তিনি ধারণকৃত শেয়ারও হস্তান্তর করতে পারবেন না। তবে নোটিশ পাওয়ার এক মাসের মধ্যে পরিচালক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে লিখিত আকারে ব্যাখ্যা দিতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংক তা ১৫ দিন যাচাই-বাছাই করে গ্রহণযোগ্য মনে করলে তিনি স্বপদে বহাল থাকবেন।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালকের পদ শূন্য হলে ওই পরিচালকের শেয়ার সমন্বয় করে প্রাপ্য টাকা আদায় করা হবে। সমন্বয়ের পর যদি টাকা বকেয়া থাকে তবে তা সরকারি পাওনা হিসেবে গণ্য হবে। পদ শূন্য পরিচালক এক বছরের মধ্যে কোনো ধরনের ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হতে পারবেন না। খসড়া আইনটিতে আরও বলা হয়েছে, এই ধারার অধীন গৃহীত কোনো ব্যবস্থা, আদেশ বা সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ৩-এর অধীন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত ছাড়া অন্য কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তির নামে আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত মামলা দায়ের থাকলে তিনি পরিচালক হতে পারবেন না। পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোনো গুরুতর অনিয়ম বা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার পর পাঁচ বছরের মধ্যে নির্দোষ প্রমাণ না হলে ওই পরিচালকের পদ থাকবে না। এছাড়া বন্ধ কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়া অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বা ব্যবস্থাপনায় থাকতে পারবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here