অনিশ্চয়তায় কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, ডিএসইর ‘যুদ্ধ ঘোষণা’

0
997

সিনিয়র রিপোর্টার : আর্থিক হিসাবে অসঙ্গতি থাকার অভিযোগ ওঠায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তালিকাভুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে আইপিওর প্রসপেক্টাসে নিজেদের সুবিধামত হিসাব দেখিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

সেই হিসাবে গরমিল বেরিয়ে আসায় কোম্পানির তালিকাভুক্তি নিয়ে ফের দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। সিএসইতে কপারটেক তালিকাভুক্ত হলেও এখনো ডিএসই তালিকাভুক্ত করেনি। সিএসইতে তালিকাভুক্তিতে আশার সঞ্জার হলেও ডিএসই ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ করায় নতুন করে আশঙ্কার তৈরি রয়েছে।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রির সাবসক্রিপশন শেষ হয়েছে ৬ এপ্রিল, সে হিসেবে ৭৫ দিন শেষ হবে ২৩ জুন। ডিএসইর কাছ থেকে তালিকাভুক্তি না পেলে কপারটেককে ৭৫ দিন পরে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হতে হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আইপিও অনুমোদন দেওয়ার পরও ওই অভিযোগে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে তালিকাভুক্ত করেনি ডিএসই। ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলছেন, বিনিয়োগকারীদের ‘টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে’ এবং পুঁজিবাজারের ‘সুশাসন বাড়াতে’ কপারটেককে তালিকাভুক্ত করা হয়নি।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের কোম্পানি সচিব এস কে মিরাজ আলী তাদের প্রসপেক্টাসে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কিন্তু মূলধন উত্তোলনের সব প্রক্রিয়া শেষ হলেও ডিএসই তালিকাভুক্ত না করায় লেনদেনে যেতে পারছে না কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ। কপারটেকের পুরো বিষয়টি তুলে ধরে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকে ‘যথাযথ সিদ্ধান্ত’ জানাতে বলেছে ডিএসই।

ফাইনানশিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) ইতোমধ্যে কপারটেকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশকে (আইসিএবি) নির্দেশ দিয়েছে। আইসিএবি এ বিষয়ে কাজও শুরু করেছে।

এফআরসির চেয়ারম্যান সি কিউ কে মোস্তাক আহমেদ বলেছেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চাওয়া কপারটেকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ভুল তথ্য পাওয়ার যে অভিযোগ পাওয়া গেছে সে বিষয়টি নিয়ে এখন নিরীক্ষা চলছে। আমরা আইসিএবিকে বলেছি, আমাদের এ বিষয়ে জানাতে। আইসিএবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

গত বছর ডিসেম্বরে আইপিও অনুমোদন পাওয়ার পর প্রকৌশল খাতের কোম্পানি কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আবেদন করে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তারা তালিকাভুক্তও হয়।

এরইমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্যে অসঙ্গতি থাকার অভিযোগ উঠলে ঢাকায় তাদের তালিকাভুক্তি আটকে যায়।

আগেও অনেক কোম্পানি মিথ্যা তথ্য দিয়ে আইপিও অনুমোদন নিয়ে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বাজার থেকে টাকা তুলে বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়েছে। সে কারণেই কপারটেকের নিরীক্ষা প্রতিবেদন পরীক্ষা করে দেখতে আইসিএবিকে নির্দেশ দেয় এফআরসি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইসিএবির পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, তদন্ত চলছে। এর চেয়ে বেশি কিছু এখন বলা যাবে না। তবে আইসিএবির সভাপতি এ এফ নেছার উদ্দিন দেশের বাইরে এবং সচিব অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইমরুল কায়েস অসুস্থ হয়ে সিএমএইচে ভর্তি থাকায় তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ডিএসই পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার খারাপ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে মানসম্পন্ন কোম্পানির অভাব। ভালো কেম্পানি কম, তাই ভালো বিনিয়োগ আসছে না, ভালো বিনিয়োগকারী তৈরি হচ্ছে না।

সরকারি কোম্পানিগুলোকে বারবার বলা হলেও তারা পুঁজিবাজারে আসতে চাইছে না। মাঝখান থেকে সেই সুযোগে খারাপ কেম্পানি- যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো না- তারা বিভিন্নভাবে বাজারে আসছে। আমরা আমাদের ডিএসইর নীতিমালা অনুযায়ী এখন থেকে খারাপ কোম্পানিগুলো যেন তালিকাভুক্ত হতে না পারে সেই চেষ্টা করব।

কপারটেকের ক্ষেত্রেও সেটিই করা হচ্ছে বলে জানান ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান।

ডিএসই কর্তৃপক্ষের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এটা আমাদের একটা যুদ্ধ। আর একটি খারাপ কোম্পানিও যাতে বাজারে আসতে না পারে, বিনিয়োগকারীদের ঠকাতে না পারে সেজন্য আমরা এখন সতর্ক হয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছু নির্ভর করছে বিএসইসি ও এফআরসির ওপর।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে তালিকাভুক্তির জন্য আমাদের নানা ধরনের চাপ দেয়া হচ্ছে। আমরা মনে করি, সরকারের উপরের কোনো ব্যক্তি এ ধরনের কাজের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত থাকতে পারেন না। তাদের নাম ব্যবহার করে এই চাপ দিয়ে একটি মহল তাদের সুনাম নষ্ট করছে।

আমরা মনে করি, এফআরসির প্রতিবেদন পেয়ে তবেই কপারটেকের তালিকাভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ। তা না হলে আমরা এফআরসি করলাম কেন? আর তালিকাভুক্ত করে দিলে আর থাকে কী? তখন তো শেয়ার লেনদেন হবে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শামীম চৌধুরী বলেন, সিএসইতে কপারটেক তালিকাভুক্ত হলেও লেনদেন এখনো শুরু হয়নি। ডিএসই তালিকাভুক্ত করে লেনদেন শুরু করলে চট্টগ্রামেও একসঙ্গে করা হবে।

মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের কোম্পানি সচিব এস কে মিরাজ আলী বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ উঠেছে সেগুলোর জবাব দিয়েছি। আমাদের গড় বেতনের ব্যাপারে যে সব সমস্যার কথা বলা হয়েছে, সেখানে কতজন কর্মচারী কয় দিন ছিল- সে সব বিষয় আমলে নেয়া হয়নি।

ঋণের সুদের ব্যাপারে যে কথা বলা হয়েছে সেগুলো ঠিক নয়। ইপিএস নিয়ে যে অভিযোগ এসেছে সেগুলোও ঠিক নয়।

খারাপ কোম্পানি ঠেকাতে এফআরসিই ভরসা?

গত কয়েক বছরে অনেক খারাপ কোম্পানি পুঁজিবাজারে এসেছে। মিথ্যা হিসাব-নিকাশের তথ্য দিয়ে বিনিয়োগকারীদের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুঁজিবাজারে সুশাসন আনতেই গঠন করা হয়েছিল এফআরসি। এখন সরকারি এই সংস্থাটিই পুঁজিবাজারে খারাপ কোম্পানি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে একমাত্র বাধা হতে পারে। কপারটেকের ক্ষেত্রে এফআরসি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষায় আছেন ডিএসইর কর্তাব্যক্তিরা।

বর্তমানে ৩১৭টি কোম্পানি ডিএসইতে তালিকাভুক্ত আছে। এর বাইরে কর্পোরেট বন্ড আছে একটি। ডিবেঞ্চার আছে আটটি। মিউচুয়াল ফান্ড ৩৭টি এবং ট্রেজারি বন্ড আছে ২২১টি।

ডিএসইর বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১০-১১ সালে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ছিল ২৩২টি কোম্পানি। দশ বছর আগে ২০০০-০১ সালে ছিল ২২৪টি।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০১ থেকে ২০১১ এই দশ বছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে মাত্র আটটি কোম্পানি। কিন্তু তার পরের আট বছরে (২০১১ থেকে ২০১৯ সাল) বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ৮৫টি নতুন কোম্পানি যোগ হয়েছে।

২০১০ সালের ধসের পর যে সব কোম্পানি বাজারে এসেছে তার বেশিরভাগের শেয়ার কিনেই লোকসান গুণতে হয়েছে বিনিয়োগকারীদের। ১৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর এখন অবহিত মূল্যের (১০ টাকা) নিচে।

অর্থাৎ তারা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে যে ধরনের মুনাফা দেখিয়েছিল তালিকাভুক্ত হয়ে তারা আর সেই অবস্থা ধরে রাখতে পারেনি। মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলে তারা আসলে বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়েছে।

এসব সমস্যার সমাধান নিয়ে দেখা দেয় আইনি জটিলতা। কারণ এসব কাগুজে কোম্পানির দায় কেউ নিতে চাচ্ছিল না।

বিএসইসি বলছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ তালিকাভুক্তির সব শর্ত পূরণ হয়েছে কি না সেটা খতিয়ে দেখা। হিসাব- নিকাশ ঠিক আছে কি না সেটা দেখার দায়িত্ব ইস্যু ম্যানেজার অথবা কোম্পানির হিসাব নিরীক্ষকের।

কিন্তু কোনো কোম্পানি যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে অথবা ইচ্ছে করে ভুল হিসাব-নিকাশ দেখিয়ে পুঁজিবাজারে আসে তাহলে তাদেরকে শাস্তি দেওয়ার কোনো আইন ছিল না। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট জাতীয় সংসদে পাশ হয়।

এরপর হিসাব নিরীক্ষকদের ভুল-ত্রুটি দেখভাল করে তাদের ঠিকঠাক রাখার জন্য ওই আইনের আওতায় গঠন করা হয় ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল- এফআরসি।

২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিএসইসি কপারটেকের আইপিও অনুমোদন দেয়। তাদের প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের ২ কোটি সাধারণ শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে ইস্যু করার অনুমোদন দেওয়া হয়।

২০১৯ সালের ৩১ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল ছিল এই কোম্পানির চাঁদা গ্রহণের তারিখ। লটারির ফলাফল প্রকাশ হয় ৩০ এপ্রিল।

এরপর কপারটেকের আর্থিক প্রতিবেদনে বড় ধরনের গরমিল নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ৯ মে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ডিএসইকে অনুরোধ জানায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকারদের সংগঠন- ডিবিএ।

১৪ মে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আইসিএবিকে নির্দেশ দেয় এফআরসি। ২৩ মে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় কপারটেককে তালিকাভুক্ত না করে বিএসইসিকে সিদ্ধান্ত নিতে চিঠি দেওয়া হয়।

এরইমধ্যে আইসিএবি কপারটেক ইন্ডাস্ট্রির নিরীক্ষক আহমেদ অ্যান্ড আখতারের কাছে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চায় এবং পরে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে ।

কপারটেকের হিসাবে যত গরমিল

কপারটেকের আইপিও প্রসপেক্টাস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আদায়যোগ্য নগদ অর্থ এবং দেনার হিসাবে গরমিল আছে। ঋণ পরিশোধের পরও সর্বশেষ ঋণস্থিতি বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। ঋণ কমার পরও অস্বাভাবিক হারে সুদ পরিশোধ বেড়েছে। কোম্পানিটির রাজস্ব আয়ের তুলনায় (টার্নওভার) মজুদপণ্যের হিসাব অস্বাভাবিক বেশি।

প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ হিসাব-বছরের শুরুতে আদায়যোগ্য নগদ অর্থ বা ‘রিসিভেবল’ ছিল প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ওই বছরে পণ্য বিক্রি হয় ৫২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার। পণ্য বিক্রি থেকে নগদ আদায় ৫০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। উপরন্তু অগ্রিম বিক্রি আরও প্রায় ৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

এ হিসাবে ‘ক্লোজিং রিসিভেবল’ হওয়ার কথা ৯ কোটি ৮ লাখ টাকা। আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। একইভাবে আর্থিক প্রতিবেদনে দেনা হিসাবে ৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা দেখালেও কাঁচামাল ক্রয় এবং এর বিপরীতে পরিশোধ হিসাব করলে অঙ্কটা দাঁড়ায় ৪ কোটি ২২ লাখ টাকা।

কপারটেকের দেওয়া তথ্যে ২০১৬-১৭ হিসাব-বছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ হিসাব-বছরে স্বল্পমেয়াদি ঋণ ৩৩ শতাংশ কমলেও সুদ ব্যয় বেড়েছে ২৩ শতাংশ। ২০১৭ সালে স্বল্পমেয়াদি ঋণ ছিল প্রায় ৩৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে তা নামে ২৬ কোটি টাকায়।

কিন্তু আগের বছর যেখানে এ ঋণের বিপরীতে পৌনে ২ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করে, গত বছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ১২ লাখ টাকা। একইভাবে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ১৭ শতাংশ কমার বিপরীতে সুদ ব্যয় বেড়েছে ৪৬১ শতাংশ।

সার্বিক হিসাবে ঋণ ২৬ শতাংশ কমলেও সুদ ব্যয় বেড়েছে ১৩৩ শতাংশ। এছাড়া লিজ ঋণ ৪৫ শতাংশ বাড়লেও সুদ ব্যয় বেড়েছে ৫ হাজার শতাংশ। অর্থাৎ একদিকে কোম্পানির ঋণ কমেছে, কিন্তু বেড়েছে সুদ পরিশোধের পরিমাণ।

দেখা গেছে, ২০১৫ থেকে ২০১৮ সমাপ্ত হিসাব-বছরের প্রতিটিতে বিক্রয় কার্যক্রমে খরচ মোট বিক্রির ৭৫ শতাংশ। বিক্রি বাড়লেও কী করে প্রতি বছর খরচ ৭৫ শতাংশই হল, তার ব্যাখ্যা নেই।

কপারটেক প্রতি হিসাব-বছর শেষে মজুদ পণ্যের যে দাম উল্লেখ করেছে, তাও অবিশ্বাস্য। গত হিসাব-বছরে যেখানে মোট টার্নওভার ছিল ৫২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, সেখানে এর ইনভেনটরিজ ৩২ কোটি টাকার। ২০১৫-১৬ হিসাব-বছরে যেখানে টার্নওভার ছিল পৌনে ৯ কোটি টাকারও কম, সেখানে ইনভেনটরিজ ছিল পৌনে ১০ কোটি টাকার।

মাঝের বছরগুলোর তথ্যও একই রকম। এ সব তথ্য বলছে, কোম্পানিটি তার বাজার চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি পণ্য উৎপাদন করছে, যা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।

কপারটেক আইপিওতে আসার মাত্র দেড় বছর আগে রাতারাতি পরিশোধিত মূলধন ১৫ গুণ বা ১৫০০ শতাংশ বাড়িয়ে ৪০ কোটি টাকা করেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ আইপিওতে আসার লক্ষ্য নিয়ে অযথা শেয়ার বাড়িয়েছে।

২০১৪ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আসা কপারটেকের মালিকপক্ষ নিজেদের শেয়ার বাড়ানোর পাশাপাশি প্লেসমেন্ট প্রক্রিয়ায় প্রায় ২২ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এতে আইপিও পরবর্তী সময়ে মালিকপক্ষের মালিকানা ৩০ শতাংশে নেমেছে।

কপারটেকের কারখানাটি হবিগঞ্জের মাধবপুরে।

এদিকে আইন অনুয়ায়ী সাবসক্রিপশন শেষ হওয়ার ৭৫ দিনের মধ্যে তালিকাভুক্তি না দিলে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দিতে হয় কোম্পানিকে। কপারটেক ইন্ডাস্ট্রির সাবসক্রিপশন শেষ হয় ৬ এপ্রিল, সে হিসেবে ৭৫ দিন শেষ হবে ২৩ জুন।

এ সময়ের মধ্যে ডিএসইর কাছ থেকে তালিকাভুক্তি না পেলে কপারটেককে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here