‘অধিকাংশই জং ধরা শেয়ার’ নিয়ে পথে বসছে বিনিয়োগকারী

0
1658

সিনিয়র রিপোর্টার : আইপিওতে ‘গত ৩ বছরে যত শেয়ার বাজারে প্রবেশ করেছে, সেগুলোর অধিকাংশই জং ধরা শেয়ার।’ যে কারণে প্রিমিয়ামসহ অভিহিত মূল্যের কাছে বা নিচে এসব কোম্পানির শেয়ার দর।

‘জং ধারা এসব শেয়ার’ নিয়ে ‍আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত হাতবদল করছেন অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী। বাজারের দুদিনের উল্ফনে বিক্রয় চাপ পরের দিন চোখে পাড়ার মতো। জং ধরা কোম্পানির শেয়ারের কারণে আস্থা হারিয়ে পথে বসছে বিনিয়োগকারী।

এমন চিত্র বেশি চোখে পড়ে বিশেষত আইপিও মাধ্যমে বাজারে আসা নতুন কোম্পানির প্রথম ও দ্তিীয় কার্যদিবসের শেয়ার লেনদেনে।

এমন জং ধরা শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত করার দায়বন্ধতা আর কেউ স্বীকার করেন না। এ বিষয়ে অনেক মার্চেন্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা মন্তব্য করতেও রাজী হননি।

প্রিমিয়াম নিয়ে বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া এসব অনেক কোম্পানির অবস্থা এখন করুণ। তাদের মধ্যে কয়েকটির চিত্র নিচে তুলে ধরা হল-

হামিদ ফেব্রিক্স লিমিটেড (HFL) আইপিও’র মাধ্যমে বাজারে ৩ কোটি শেয়ার ইস্যু করে ১০৫ কোটি টাকা উত্তোলন করে। অভিহিত মূল্য ১০ টাকার সাথে ২৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ প্রতিটি শেয়ার কিনতে বিনিয়োগকারীদের মোট ৩৫ টাকা গুনতে হয়।

গত বছরের ৫ ডিসেম্বব ৬০ টাকায় হামিদ ফেব্রিক্সের লেনদেন শুরু করেলেও তা এখন ইস্যু মূল্যের কাছে। বুধবার ১৩.৭০ টাকায় দিনের শেষ লেনদেন হয়েছে।

দ্য পেনিনসুলা চিটাগং লিমিটেড ১০ টাকা ফেসভ্যালুর সাথে ২০ টাকা প্রিমিয়াম নিয়ে প্রতিটি শেয়ারের ইস্যুমূল্য দাঁড়ায় ৩০ টাকা। কোম্পানিটি ২০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৩০ টাকা মূল্যে ৫ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ইস্যু করেছিল। ডিএসইতে বুধবার সে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর হয়েছে ১৪.৪০ টাকা।

২০১৫ সালে পুঁজিবাজার থেকে আইপিও’র মাধ্যমে ১২টি কোম্পানি ৮৩০ কোটি টাকা তুলেছে। এরমধ্যে পুঁজিবাজারে শেয়ার লেনদেনকারী ৭টি কোম্পানিই নিয়েছে প্রিমিয়াম।

আইপিও’র মাধ্যমে সাধারণ শেয়ারহোল্ডার কাছ থেকে নেয়া ৮৩০ কোটি টাকার মধ্যে প্রিমিয়াম বাবদ নেয়া হয়েছে ৪৫৬ কোটি টাকা। তবে প্রিমিয়ামসহ টাকা তুলে নেয়া এসব কোম্পানির বেশিরভাগই তার অবষ্থান ধরে রাখতে পারেনি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক বিনিয়োগকারী।

২০১৫ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টাকা তুলে নেয় রিজেন্ট টেক্সটাইল। প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজার থেকে অর্থ তুলেছে ১২৫ কোটি টাকা। এরমধ্যে প্রিমিয়াম হিসেবে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা। বুধবার সেই কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর হয়েছে ১১.৭০ টাকা। যা বিস্ময়কর।

দেখ‍ুন খবর : তিন আইপিও ‘শুষে নিচ্ছে তরল মানি’

তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ১৬ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২৬ টাকায় শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন পায়। কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৬৬ হাজার শেয়ার ছেড়ে ৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করে। বুধবার ডিএসইতে তসরিফার শেয়ারপ্রতি দর হয়েছে ১৫ টাকা।

অন্যদিকে সাফল্য ধরে রেখেছে খুব অল্প সংখ্যক কোম্পানি। পতন থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আবু আহমেদ মনে করেন, একটা ভালো ব্যাখ্যা আসতে পারে কেবল আমরা যদি অর্থনীতি শাস্ত্রের জ্ঞানগুলোকে সামগ্রিকভাবে প্রয়োগ করি।

পেছনের খবর : ৭টি কোম্পানি প্রিমিয়ামে নিয়েছে ৪৫৬ কোটি টাকা

আরো খবর : বাজারের অসুখ ‘শেয়ার নিয়ে জুয়া খেলা’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here