অতিরিক্ত ভাতা নেয়ার অভিযোগ, বিএসইসির চেয়ারম্যান-কমিশনারকে অব্যাহতি

0
681

অভিযোগ থেকে বিএসইসির চেয়ারম্যান-কমিশনারকে অব্যাহতি
এসবি ডেস্ক : পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ও একজন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণ সম্মানী বাবদ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯৬ টাকা অতিরিক্ত ভাতা নেওয়ার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বাণিজ্যিক অডিট অধিদফতর।

গত ২ জুন বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ঠ প্রকল্প অডিট অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোসা. মাহবুবা বেগম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইমপ্রুভমেন্ট অব ক্যাপিটাল মার্কেটস গভর্নেন্স প্রজেক্টের ২০১২-১৩ অর্থবছরের অডিট রিপোর্টে বিএসইসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম খায়রুল হোসেন ও কমিশনার আরিফ খানকে প্রশিক্ষণ সম্মানী বাবদ অতিরিক্ত ১ লাখ ১২ হাজার ৪৪২ টাকা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। কমিশনের জবাব ও প্রমাণের আলোকে আপত্তিটি নিষ্পত্তি করা হলো।

একইভাবে বিএসইসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম খায়রুল হোসেন ও কমিশনার আরিফ খানকে বৈদেশিক ভ্রমণ বাবদ অতিরুক্ত ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৫৪ টাকা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তাদের জবাব ও প্রমাণের আলোকে আপত্তিটি নিষ্পত্তি করা হলো।

জানা গেছে, গত ১৪ ও ১৫ অক্টোবর ২০১২ তারিখে দুই দিনব্যাপী চট্টগ্রামে রিপোর্ট রাইটিং আর্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশন স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের সম্মানী ভাতা বাবদ অতিরিক্ত ১ লাখ ১২ হাজার ৪৪২ টাকা এবং বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ভ্রমণের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন ও কমিশনার আরিফ খানকে প্রাপ্যতার অতিরিক্ত ২০৬৪.৯৭ ইউএস ডলার সমমানে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৫৪ টাকা অতিরিক্ত ভাতা প্রদান করা হয়েছে, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২০১২ সালের ৯ অক্টোবরের অফিস আদেশ অনুযায়ী কর্মকর্তারা হোটেল ভাতাবাবদ প্রতিদিন ২৪০ ডলার এবং ক্যাশ অ্যালায়েন্স বাবদ ১০১ ডলার প্রাপ্য হবেন, কোনো সিটি অ্যালায়েন্স প্রাপ্য হবেন না, যা ক্যাশ অ্যালায়েন্সের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে।

কিন্তু এডিবির অর্থায়নে বাস্তবায়িত ইমপ্রুভমেন্ট অব ক্যাপিটাল মার্কেটস গভর্নেন্সের ২০১২-১৩ অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট প্রজেক্টের রিপোর্টে দুটি বিষয়ের ওপর বিএসইসির চেয়ারম্যান ও এক কমিশনারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাতা গ্রহণের আপত্তি তুলে অডিট অধিদফতর। ওই অডিট রিপোর্টের ২.০১ ও ২.০২নং অনুচ্ছেদগুলোর গুরুতর আর্থিক অনিয়ম সংশ্লিষ্ট বিধায় জরুরিভিত্তিতে নিষ্পত্তি হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় অডিট অধিদফতর।

চিঠিতে আপত্তি হিসেবে উল্রেখ করা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ সম্মানী ও বৈদেশিক ভ্রমণ ভাতা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি এক্সিট মিটিংয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ কিছু কাগজপত্র সরবরাহ করে। ওই কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, এডিবির হার অনুযায়ী প্রশিক্ষণ সম্মানী প্রদান করা হয়েছে, যা সরকারি কর্মকর্তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে অডিট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ বিষয়ে অতিরিক্ত ভাতা পরিশোধিত অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে আদায় ও সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে তা অডিট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে পারেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, একটি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের সম্মানী ও এবং বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ভ্রমণ বাবদ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯৬ টাকা ভাতা গ্রহণের বিষয়ে অডিট অধিদফতরের পক্ষ থেকে যে আপত্তি তোলা হয়েছিল তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আপত্তিতে বলা হয়েছিল- বিষয়গুলো গুরুতর আর্থিক অনিয়ম। ওই আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাব দিয়েছিলাম। জবাব ও প্রমাণসাপেক্ষে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজার সম্পর্কে অধিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য বিদেশ ভ্রমণ করা হয়ে থাকে। আমাদের চেয়ারম্যান ও কমিশনার প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন, তাদের এডিবি হার অনুযায়ী ভাতা প্রদান করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। অডিট অধিদফতরের অপত্তির পর তা পুনরায় নিষ্পত্তি করাই প্রমাণ করে এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here